নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ভারত ও চীন যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে এটা কূটনৈতিকভাবে সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না। ভারতের দাবি তাদের ২০ জনের মতো মারা গেছে। যদি ভারতের কথা সত্যি হয় এবং চীনের কিছু হতাহত হয়ে থাকে তাহলে দুই দেশই এখন প্রতিশোধ পরায়ণ। মানবজমিনকে তিনি বলেন, বিশেষ করে এই যে ষোলো হাজার বা সতের হাজার ফিটের উপরে ভারতীয় সৈন্য মারা গেছে এখন ভারতীয় সৈন্যদের ভেতরে একটা ক্ষোভ তৈরি হবে যদি ভারত কোনো অ্যাকশনে না যায়। শুধু তাই না ভারতের এখন যে সরকার হিন্দুত্ববাদী, জাতীয়তাবাদী যে সরকার তার পজিশন ডাউন হবে যদি তারা অ্যাকশন না নিতে পারে। আর ভারত যখনই কোনো অ্যাকশন নিতে যাবে চীন সেটা প্রতিহত করবে। সেই জায়গায় ৬২ সালের মতো না হলেও তার কাছাকাছি একটা সমস্যা তৈরি হবে। চীন বা লাদাখে যদি এটা হয় তাহলে চীন ভারতকে বিভিন্ন জায়গায় আটকানোর চেষ্টা করবে।
সেটা হতে পারে অরুণাচল প্রদেশে, নেপালের উত্তরে, হতে পারে ডোকরাম অঞ্চল। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশে যদি চীন সৈন্য জড়ো করে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা আরো বেশি হয়ে যাবে। চীন ভারত অস্থিরতায় বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম উন্নয়নের যে সমস্ত মহাপ্রকল্পগুলো চলছে বেশির ভাগই কিন্তু চীনের অর্থায়নে। চীনই কিন্তু আমাদের অর্থনীতিতে রক্ত সঞ্চালন করছে। অপরদিকে ভারত আমাদের অত্যন্ত পরম বন্ধু। বিশেষ করে এই সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। সেই জায়গায় আমাদের একটা ভারসাম্য রাখতে হবে। এরকম যদি হয় চীন যদি পূর্ব দিকে পুশ করে ভারতকে উপেক্ষিত করার জন্য। যদি সেই অবস্থা হয়। যদি বড় কোনো ক্র্যাশ হয় তাহলে আমরা কিন্তু নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে থাকবো। ভারত আমাদের পণ্য সরবরাহে লাইন তৈরি করেছে। সেক্ষেত্রে চীন আমাদের সঙ্গে কি রকম সম্পর্ক রাখবে। সেগুলো কিন্তু আমাদের আগাম চিন্তা করা দরকার। বিশেষ করে করোনা নিয়ে আমরা কিন্তু একটা বিশাল সমস্যার মধ্যে আছি। আমাদের এটা কন্ট্রোল হচ্ছে না এবং কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। আমাদের সামাজিক স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতি সবই এখন বিশাল খাদের মধ্যে পড়ছে। কাজেই আমাদের খুব সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। আগাম কূটনৈতিক পরিকল্পনা করে রাখতে হবে সেরকম পরিস্থিতিতে আমরা কি করবো। কি হবে আমরা জানি না। কিন্তু সব বিষয়ে একটা পরিকল্পনা থাকে। কূটনৈতিকভাবে আমরা কতখানি করতে পারবো। আমরা কি দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করবো। চুপচাপ থাকলে এর ফল কি হবে? চীন ভারত এটা ক্ষতিকর হবে না এমনও হতে পারে অপর পক্ষ পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে। এবং ইন্টার নিউক্লিয়ার কান্ট্রি জড়িয়ে পড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে একটা আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমাদের সীমান্ত কিন্তু বেসামাল মিয়ানমারের সঙ্গে। আমাদের খুব ভালোভাবে বিষয়টি দেখতে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। আশা করছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে। আমরা কেনোভাবেই কোনো পক্ষে জড়াতে চাই না। কোনো পক্ষে জড়ালেই কিন্তু আমরা মহাবিপদে পড়বো অর্থনৈতিকভাবে এবং সামজিকভাবে। আমরা যেন ভারসাম্য বজায় রাখি।সুত্র মানবজমিন
Leave a Reply