1. manjurmesbah83@gmail.com : admin2020 :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি: বাংলাদেশিরা জেতেননি, তবুও আশা জাগানিয়া নির্বাচন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৭৩৪ Time View

ইমরান আনসারী
নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের এবারে দক্ষিণ এশিয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলেও নিশ্চিত হয়নি বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব। দক্ষিণ এশিয় কমিউনিটির সদস্য হিসেবে কাউন্সিল ওমেন হিসেবে জিতে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত জেনিফার রাজকুমার ও জোহরান মামদানী। বাংলাদেশি  মেরি জোবায়দা, মাহফুজুর রহমান, জয় চৌধুরী ও মৌমিতা আহম্মেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও এখনও পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি কেউই। অবশ্য কুইন্সে মোহাম্মদ রহমান ইমরান জুডিশিয়াল ডেলিগেট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কিছুটা হলেও কমিউনিটির মুখ রক্ষা করেছেন।
এ নিয়ে কমিউনিটিতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাদের মতামত তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গিতে। বাংলাদেশিদের বিজয়ী না হবার পেছনে যেসব কারণগুলো ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে তা হলোÑ প্রার্থীদের প্রস্তুতির অভাব, দ্বিধাবিভক্ত কমিউনিটি, দুর্বল  প্রচারণা কৌশল, বাংলাদেশিদের ভোটদানে অনাগ্রহ ও প্রার্থীদের প্রতি কমিউনিটির আস্থার সংকট। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিভিন্ন পদে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৫ জন বাংলাদেশি নির্বাচনী প্রতিদ্ধন্ধিতায় অংশ নেন। নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল বিধায় গত ২৩ জুনের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে প্রার্থীই ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারিতে বিজয়ী হবেন তিনি বলা চলে অনেকটা বিনা বাধায় চূড়ান্ত নির্বাচনে বিজয়ী হবেন।
দক্ষিণ এশিয় প্রতিনিধিত্ব:
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে দক্ষিণ এশিয়দের প্রতিনিধিত্ব বিভিন্ন সময়ে দেখা গেলেও বিশ্বের সর্ববৃহৎ সিটি নিউইয়র্কে ভারত, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুতদের প্রতিনিধিত্ব দেখা গেছে খুবই নগণ্য হারে। সরকারি হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন লাখের কাছাকাছি দক্ষিণ এশিয় জনগোষ্ঠী এ সিটিতে বসবাস করে। যা মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ। সে অনুপাতে স্টেট এসেম্বলিতে এক শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এত বছরে সম্ভব হয়ে উঠেনি। স্টেট সিনেটে যে দুইজন দক্ষিণ এশিয় প্রতিনিধি রয়েছেন তাদের কেউই নিউইয়র্ক সিটির নন। ব্যরো হিসেব করলে কুইন্স ব্যরোতেই বসবাস করেন মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়। যার মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে, ৩ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি। আর ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এ ২৬ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়, ডিস্ট্রিক্ট ৩১-এ ১৩ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়, ডিস্ট্রিক্ট ৩৪-এ ১৩ শতাংশ এবং ডিস্ট্রিক্ট ৩৮-এ ১২ শতাংশ দক্ষিণ এশিয় বসবাস করছে। কিন্তু সে অনুপাতে কুইন্সে এতদিন দক্ষিণ এশিয় কিংবা বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে কোনো প্রতিনিধিই পাঠাতে পারেনি এখানকার জনগোষ্ঠী। এবারে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে শুধুমাত্র কুইন্সেই প্রতিদ্বন্ধীতা করেছেন প্রায় ডজন খানেক দক্ষিণ এশিয় প্রার্থী। যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বাংলাদেশি প্রার্থী।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপ-বাগের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূইয়া মনে করেন, বাংলাদেশি যারা প্রার্থী হচ্ছেন তারা প্রার্থী হবার আগে নিজের কমিউনিটির নেতাদের সাথে আলাপ করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। তাছাড়া এখানে দক্ষিণ এশিয় একটি বিরাট কমিউনিটি রয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে বিজয় আসবে না। এত কিছুর পরও এবারে দক্ষিণ এশিয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন জেনিফার রাজকুমার। তিনি এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৮ থেকে ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যিনি ক্ষমতাসীন এসেম্বলিম্যান মাইক্যাল মিলারকে ধরাশায়ী করেন। জেনিফার রাজকুমার এর আগেও ম্যানহাটান থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এছাড়াও ভারতীয় বংশোদ্ভুত জোহরান মামদানীও প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতাসীন এসেম্বলিম্যান এরোবেলা সিমোটাসকে ধরাশায়ী করেন।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব:
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিরা নির্বাচনের রাজনীতিতে সাফল্য দেখাতে পারলেও নিউ ইয়র্কে এখনো সেভাবে কেউই নির্বাচিত হতে পারেননি। এবারে একঝাঁক তরুণ প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রার্থীদের মধ্যে ইউএস কংগ্রেসওম্যান পদে নিউইর্কের     কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে বদরুন্নাহার মিতা এবং কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে সানিয়াত চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিউইয়র্ক ষ্টেটের এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ (কুইন্স ব্রীজ, লং আইল্যান্ড সিটি, সানি সাইড, উডসাইড, ম্যাসপাথ ও রিজউড) থেকে এসেম্বলীওম্যান পদে মেরী জোবায়দা, এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে মাহফুজুল ইসলাম এবং এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ থেকে জয় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও ডেমোক্র্যাট দলীয় ডিস্ট্রিক্ট লীডার পদে অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে ফিমেল লীডার পদে মৌমিতা আহমেদ, মেল লীডার পদে মাহতাব খান ও ইশতিয়াক চৌধুরী, এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে মেল লীডার পদে মোহাম্মদ চৌধুরী ও ফিমেল লীডার পদে মোবাসসেরা বেগম, এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ফিমেল লীডার পদে সাঈদা আক্তার, এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৫৪ থেকে মেল লীডার পদে নাফিজ আই চৌধুরী, অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে মেল লীডার পদে এন মজুমদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর দিকে এসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে জুডিশিয়াল ডেলিগেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ এম রহমান। এছাড়াও নিউইয়র্কের ষ্টেট এসেম্বলী ডিস্ট্র্রিক্ট-২৪ থেকে কমিটিওম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জামিলা আক্তার উদ্দিন। এদের মধ্যে এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে জুডিশিয়াল ডেলিগেট পদে বিজয়ী হন মোহাম্মদ এম রহমান। এছাড়া স্টেইট এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে কমিটিওম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এ পদে বিজয়ী হয়েছেন জামিলা আক্তার উদ্দিন। বাংলাদেশিদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির অধ্যাপক ড. ইউসুফ রহমান বলেন, এটি একটি বহুসংস্কৃতির শহর। এখানে নির্বাচনে জিততে হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের চাহিদা বুঝতে হবে। বাংলাদেশি প্রার্থীরা এটি বোঝার ক্ষেত্রে দৈন্যতা দেখিয়েছেন। তারা সব কমিউনিটির কাছে উপস্থাপিত হতে পারেননি। নির্বাচনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরো বলেন, প্রার্থী হিসেবে এখনো বাংলাদেশিদের যোগ্যাতার ঘাটতি রয়েছে। এখানে সামাজিক ইস্যুগুলো প্রার্থীদের বুঝতে হবে এবং সেই ইস্যু নিয়ে তাদের নির্বাচনের অনেক আগ থেকেই কাজ করতে হবে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশি কংগ্রেশনাল প্রার্থীদের চেয়ে এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-এর নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা অনেক ভাল করেছেন। কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ এ যুক্তরাষ্ট্রের হেভিওয়েট কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কাটেজির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশি বদরুন খান। তিনি  ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২০৪০। এ আসনে ওকাসিও কার্টেজি ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৭৪৬০।
কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশি আমেরিকান সানিয়াত চৌধুরী। তিনি ২২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্সের কাছে ধরাশায়ী হন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১০৮০৩। আর গ্রেগরী মিক্স পান ৩৭৩৬৭ ভোট।
এতো বড় নির্বাচনে হুট করে প্রার্থী হয়ে যাওয়াকে বাংলাদেশিদের ‘অপরিপক্ক সিদ্ধান্তÍ বলে মনে করেন বিশিষ্ট লেখিকা মিনা ফারাহ। তিনি বলেন, কংগ্রেসম্যান হবার জন্য যে ধরনের সামগ্রিক যোগ্যতার প্রয়োজন তা বাংলাদেশিদের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণ না করে হুট করে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যাওয়া শোভনীয় নয়।
এদিকে এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৭-এ বাংলাদেশি মেরি জোবাইদা রেকর্ড সংখ্যক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। মেরি জোবায়দার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৭১১। এ ডিস্ট্রিক্টে বিজয়ী হন ক্ষমতাসীন ক্যাথরিন নোরান। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৪৩১৪।
এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এ বাংলাদেশি মাহফুজুল ইসলাম শক্তিশালী এসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন এর বিরুদ্ধে ২৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট এ আসনে ডেভিড ওয়েপ্রিন ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারো বিজয়ী হন। এ আসনে ভারতীয় বংশোদ্ভুত আলবার্তু বালদিয়ো ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন। তিনি না প্রার্থী হলে এ আসনটি বাংলাদেশি মাহফুজুল হক পেতে পারতেন বলে মনে করেন কমিউনিটির নেতারা।
অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ আসনে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ১৫ দশমিক ১% অর্থাৎ ৯৪৩ ভোট। তার এই আসনে বিজয়ী জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৪% অর্থাৎ ২,৫১৪ ভোট। এই আসনের ৫জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ের অবস্থান তৃতীয়।
বাংলাদেশিদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কমিউনিটি বোর্ড ৮ এর সদস্য, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মুহাম্মদ তুহিন বলেন, বাংলাদেশি প্রার্থীরা রাজনীতিতে সাফল্য লাভে শর্টকার্ট রাস্তা খুঁজেন। আমাদের মতো সংখ্যালঘিষ্ট কমিউনিটির সদস্যদের শর্টকার্ট কোনো পথ নেই। দীর্ঘ পথ হেঁটেই বিজয় ছিনিয়ে আনা যাবে। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয় জেনিফার রাজকুমার ও জোহরান মামদানী আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন কিভাবে তিলে তিলে নিজেকে গড়তে হয়। কিভাবে নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরী করতে হয়।
এদিকে ডিস্ট্রিক্ট ২৪ এ ডেমোক্র্যাটিক ফিমেল ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে মৌমিতা আহম্মেদ ১২৫৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মার্থা ট্রেইলর ১৩১৯ ভোট পেয়ে এখনো পর্যন্ত প্রথম স্থান দখল করে আছেন। তবে এভসেন্টি ভোটে মৌমিতা আহম্মেদ ৬৬ ভোটের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে বিজয়ী হতে পারবেন বলে ধারণা করছেন অনেক ভোটার।
নির্বাচনী রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অনাগ্রহ:
বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রার্থী পরাজিত হবার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রার্থীরা দেখছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবক হওয়া, নির্বাচনী ফান্ডে দান করা সর্বোপরি ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশিরা। এটি শুধু বাংলাদেশিদের নয় পুরো এশিয় প্যাসেফিক আইল্যান্ড থেকে আগত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে একই কথা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা এশিয় প্যাসিফিক আইল্যান্ডের অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে হিসপানিক কমিউনিটির পরেই যে কমিউনিটির মানুষের সংখ্যা বেড়েছিল তা হচ্ছে এশিয়। হিসপানিক জনসংখ্যা বেড়েছিল ৪৩ শতাংশ আর আর এশিয়ানদের এ বৃদ্ধির হার ছিল ৪২.৯ শতাংশ। এশিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি ভোটার ব্লক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিধি নির্বাচনে পিছিয়ে। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, ভোট দানে অনাগ্রহ। ইক্যুয়ালিটি ইন্ডিকেটরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে এশিয়ানার ভোট দিয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে সংখ্যাগুরু সাদা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। এতো গেল পরিসংখ্যানগত দিক। কিন্তু সরেজমিন চিত্র আরো ভয়াবহ। ভোটের আগের দিন এ প্রতিবেদক বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নাগরিককে জিজ্ঞেস করেছিলেন আগামী কাল কাকে ভোট দেবেন। জবাবে, একজন জানালেন কালকে আবার কিসের ভোট। আরেকজন জানালেন, ভোট দিয়ে কি হবে, আমাদের বাংলাদেশি তো কেউ দাঁড়ায়নি।
২৩ জুন ভোটের দিন বিকাল তিনটায় এ প্রতিবেদক নিউইয়র্কের একটি বড় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী এক ভোটারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি ভোট দিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রার্থীদের কি অবস্থা? জবাবে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান তিনি দিনভর নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। সন্ধ্যার পর ভোট দিতে যাবেন। উপরোক্ত দু’টি কথপোকথন থেকে আঁচ করা যায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের কতটুকু আগ্রহ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিকারী মাহফুজুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারির কারণে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে পারেনি। তাতে করে বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। এছাড়াও আমার আবেদনটি ঘরে ঘরে পৌছানোর জন্য বিকল্প মাধ্যমে চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশিরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেশি পরিমাণে অংশগ্রহণ করলে আমাদের কমিউনিট থেকে শিগগিরই প্রতিনিধি আলাবেনিতে যাবে।
দ্বিধাবিভক্ত কমিউনিটি:
বাংলাদেশি প্রার্থীদের সাফল্যের পেছনে বড় বাধা দেশিয় রাজনীতি। এখানকার সমাজ ও রাজনীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই ধারায় বিভক্ত। বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে কেউ প্রার্থী হলে সর্বপ্রথম বিবেচনা করা হয় তাঁর নিজের কিংবা তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান কোন বলয়ে ছিল। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ভোট দিতে কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নারাজ। এছাড়াও পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষের জেরেও অনেকে নিজের কমিউনিটির প্রার্থীদের ভোট দেন না বলেও মনে করেন কমিউনিটির কেউ কেউ।
এছাড়াও প্রার্থীরা রাজনীতির মাঠে কাজ না করে হুট করে প্রার্থী হবার প্রবণতা কমিউনিটিতে প্রার্থীদের আস্থার সংকট বাড়িয়ে তুলেছে। যার ফলশ্রুতিতে প্রার্থীরা কমিউনিটি থেকে আশানুরূপ অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশিরা যাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের প্রত্যেকের নির্বাচনী বাজেট ছিল বাংলাদেশি প্রার্থীদের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি।সুত্র আজকাল

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Recent Comments

    calendar 2026

    June 2026
    M T W T F S S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930  
    © All rights reserved © 2019 OnlineChannel
    Theme Customization By onlinechannel.Com