চীনে নির্যাতনের শিকার উইঘুর মুসলিমদের এবার জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করছে দেশটির সরকার। মুসলিমদের সংখ্যা যেন বাড়তে পারে এজন্য জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হচ্ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’র অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এপির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার কমানোর নামে চরম নির্মমতা চালাচ্ছে চীনা প্রশাসন। যা গণহত্যার শামিল বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই প্রতিবেদনকে ভুয়া খবর বলে দাবি করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
জন বিস্ফোরণ ঠেকাতে চার দশক আগে এক সন্তান নীতি চালু করে চীন। পরে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয় দুই সন্তানের। তবে আইনে বাধা নেই তিন সন্তান নেওয়ার।
এমন আইনের পরও দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করছে শি জিন পিং সরকার। অঞ্চলটিতে মুসলিমদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জোরপূর্বক ঘটানো হচ্ছে গর্ভপাত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সারা দেশে যেখানে জন্মহার কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। সেখানে জিনজিয়াং প্রদেশে এই হার ২৪ শতাংশ।
একজন উইঘুর নারী বলেন, ‘২০১৫ সালে যখন আমি তৃতীয় বাচ্চার জন্ম দেই, তখন আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিল। যেখানে সরকারের অনুমোদন ছিল। তারপরও আমার স্বামীকে তারা আটক করে নিয়ে যায়। আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোপনে কেউ সন্তান জন্ম দিচ্ছে কিনা এমন সন্দেহে চালানো হচ্ছে অভিযান। গণহারে প্রেগনেন্সি পরীক্ষাও করা হচ্ছে। এমনকি তিন সন্তান জন্মের তথ্য জানলেই গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
চীনা গবেষক আদ্রিন জেনজ বলেন, জিনজিয়াংয়ে সরকার জন্মহার কমানোর চেষ্টা করছে। তবে সেই পদ্ধতি প্রশ্নের মুখে। নির্মমতার কথা উঠে আসছে বারবার। নারীদের যেভাবে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হচ্ছে তা স্পষ্ট জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি লঙ্ঘন।
শুধু তাই নয়, জন্মহার কমাতে পরিবারের পুরুষদের গণহারে গ্রেপ্তার করার মতো অমানবিকতাও চালাচ্ছে চীন সরকার।
Leave a Reply