যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে নতুন একটি বাধ্যতামূলক নিবন্ধন নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ২৯ জুন এ–সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানকারী নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। বিশেষ করে যাদের বয়স ১৪ বছর বা তার বেশি এবং ভিসা আবেদনের সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া হয়নি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে।
এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) অনলাইনে ‘জি-৩২৫আর’ (G-325R) ফর্ম চালু করেছে। আবেদনকারীরা এই ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের দায়িত্ব তাদের বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের। তবে কোনো শিশু আগে নিবন্ধিত থাকলেও ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে তাকে নতুন করে নিবন্ধন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ডিএইচএস একটি নিবন্ধন সনদ বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই সনদ সব সময় নিজের সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, এই নিবন্ধন কোনো ধরনের অভিবাসন মর্যাদা (ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস) প্রদান করবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট হিসেবেও গণ্য হবে না। এটি কেবল একটি আইনগত নিবন্ধন প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া, কোনো বিদেশি নাগরিক যতবারই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করুন না কেন, প্রতিবার যদি তার অবস্থান ৩০ দিন বা তার বেশি হয়, তাহলে নতুন করে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন না করলে বা তথ্য গোপন করলে তা ফেডারেল অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে প্রশাসন একটি অনলাইন এআরআর ডিটারমিনেশন টুল চালু করেছে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা সহজেই জানতে পারবেন, তাদের জন্য এই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নতুন এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসন–অধিকার সংগঠনগুলোর একাংশের আশঙ্কা, এই বিধান বাস্তবায়নের ফলে অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
Leave a Reply