মরুভূমির তীব্র দাবদাহ আর লাখ লাখ মুসল্লির ভিড়েও পবিত্র মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ বা মসজিদ আল হারামে প্রবেশ করলেই জুড়িয়ে যায় প্রাণ। বাইরের তাপমাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, ভেতরের পরিবেশ সবসময়ই থাকে মনোরম ও বসন্তের মতো শীতল। আল্লাহর মেহমানদের পরম শান্তিতে ইবাদত করার সুযোগ করে দিতে সেখানে ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং সর্বাধুনিক একটি কুলিং (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ) সিস্টেম।
সম্প্রতি সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট জানায়, ‘জেনারেল অথরিটি ফর দ্য কেয়ার অব দ্য অ্যাফেয়ার্স অব দ্য গ্র্যান্ড মস্ক অ্যান্ড দ্য প্রফেট’স মস্ক’ এই বিশাল ও জটিল প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছে।
কীভাবে তাপমাত্রা সবসময় ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রিতে রাখা হয়
মসজিদ আল হারামের ভেতরের পরিবেশকে শীতল রাখতে যে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, তার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১,৫৫,০০০ রেফ্রিজারেশন টন। সাধারণ বাসাবাড়িতে আমরা ১ বা ২ টনের যে এসি ব্যবহার করি, তার তুলনায় এই সিস্টেমের ক্ষমতা অবিশ্বাস্য রকমের বিশাল। মূলত দুটি প্রধান কুলিং প্ল্যান্টের মাধ্যমে এই শীতলীকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
শামিয়া প্ল্যান্ট: এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কুলিং প্ল্যান্ট, যা মসজিদ আল হারামের একটি বড় অংশের শীতলতার জোগান দেয়।আজইয়াদ প্ল্যান্ট: এই প্ল্যান্টটিও ব্যাকআপ এবং মূল গ্রিডের সাথে যুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করে।
গ্র্যান্ড মসজিদের মূল ভবন, সম্প্রসারিত অংশ, নামাজের ছাদ, ভূগর্ভস্থ তলা এবং চারপাশের প্রধান প্রাঙ্গণসহ প্রায় ১৫ লাখ বর্গমিটার (১.৫ মিলিয়ন স্কয়ার মিটার) এলাকা জুড়ে এই কুলিং নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। প্রকৌশলীরা এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ এয়ার-ডিস্ট্রিবিউশন (বাতাস বণ্টন) ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যার ফলে মসজিদের যেকোনো কোনায়, যেকোনো স্তরেই মুসল্লিরা অবস্থান করুন না কেন, সবখানেই সমান তাপমাত্রা অনুভূত হয়।
৯৫% নিখুঁত বায়ু পরিশোধন প্রযুক্তি
এই সিস্টেমটি কেবল বাতাসকে ঠাণ্ডাই করে না, বরং মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা রাখে। অত্যন্ত আধুনিক ‘এয়ার ট্রিটমেন্ট’ এবং বিশেষ ফিল্টারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাইরের বাতাসকে টেনে এনে প্রায় ৯৫% পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিশোধন করা হয়। এর ফলে ধুলোবালি, জীবাণু ও অতিসূক্ষ্ম কণা দূর হয়ে মসজিদের ভেতরে সবসময় সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ, তাজা এবং স্বাস্থ্যকর বাতাস প্রবাহিত হয়।
দিন দিন ওমরাহ পালনকারী এবং হজ যাত্রীদের সংখ্যা রেকর্ড হারে বাড়ছে। এই বিশাল জনসমাগমের চাপ সামলানো এবং প্রচণ্ড ভিড়েও যেন অক্সিজেনের অভাব বা অস্বস্তি না হয়, সেজন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এই সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। স্বয়ংক্রিয় থার্মাল সেন্সরের মাধ্যমে ভেতরের ভিড় ও বাইরের তাপমাত্রার অনুপাত হিসাব করে এসির কুলিং লেভেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
সর্বাধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং নিখুঁত ব্যবস্থাপনার এই মেলবন্ধনের কারণেই মরুর তীব্র গরমের মাঝেও মক্কার মসজিদ আল হারামে পা রাখামাত্রই মুসল্লিরা এক স্বর্গীয় শীতলতা ও প্রশান্তি লাভ করেন, যা তাদের একাগ্রতার সাথে ইবাদত সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। সুত্র দৈনিক ইনকিলাব
Leave a Reply