ছয় বছরের ব্যবধানে সরকারের সুদব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শতাংশ হিসাবে যা ১১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে যেখানে বাজেটে সুদ খাতে ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। সেখানে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এ সময় অভ্যন্তরীণ সুদব্যয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের সুদব্যয়ও ৫ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক থেকে অধিক হারে ঋণ নেয়ার কারণে এ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সুদব্যয় হিসেবে যে ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা ধরা রয়েছে তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদের ব্যয়ই ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে আরো ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সুদব্যয়ের মধ্যে সরকারি চাকুরেদের প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে ঋণ নেয়ার জন্য সুদ গুনতে হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রতি বছর সুদব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর বাজেটে ব্যয়ের পাশাপাশি আয়েরও একটি হিসাব আমরা করে থাকি। যখন রাজস্ব প্রাপ্তি কাক্সিক্ষত মাত্রায় না হয় তখন বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারকে বেশি করে ঋণ নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। আর বেশি ঋণ মানে বেশি সুদ। তিনি বলেন, গত দুই বছর কিন্তু সুদব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর একটি মাত্র কারণ সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ নেয়া। কারণ সঞ্চয়পত্রে বেশি সুদ পরিশোধ করতে হয়। এখনো সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ রয়েছে। গত অর্থবছরেই সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারকে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিতে হয়েছে। সেখানে পরিশোধ করতে হয়েছে মোটা অঙ্কের সুদ।
এ দিকে, চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সুদ খাতে ব্যয় করা হচ্ছে ৫৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদব্যয় হয়েছে ৫২ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদব্যয় ৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদব্যয় ছিল ৪৫ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা এবং বিদেশী সুদব্যয় ৩ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। ১৭-১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদব্যয় ৩৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদব্যয় ছিল ৩ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।
একইভাবে ১৬-১৭ অর্থবছরে এ ব্যয় যথাক্রমে ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং এক হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ১৫-১৬ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ও এক হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদব্যয় ছিল ২৯ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। নয়া দিগন্ত
Leave a Reply