1. manjurmesbah83@gmail.com : admin2020 :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন

পূর্ব ইউক্রেনে ‘যুদ্ধ শুরু’ পুতিনকে ‘শান্তি ও কূটনীতির পথে’ ফিরে আসার আহ্বান আমাদের সময় ডেস্ক

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৬৫৩ Time View

মনে হয় না ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন চালাবে রাশিয়া, উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তাৎসিয়ানা কুলাকেভিচ আমাদের সময়কে বলেছেন ‘ইউক্রেনে যেহেতু রাশিয়ার স্বার্থ আছে, সেহেতু ইউক্রেন সুরক্ষিত নয় মোটেও।’ সম্প্রতি ইমেইল সাক্ষাৎকারে এই লেখককে এমন মন্তব্য করেছিলেন বেলারুশ বংশোদ্ভূত মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তাৎসিয়ানা কুলাকেভিচ।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার এ অধ্যাপক এও বলেছিলেন- ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন রাশিয়া সম্ভবত চালাবে না; তবে পূর্ব ইউক্রেনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সংঘাত শুরু হতে পারে যে কোনো সময়।

এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি কুলাকেভিচের কথাকেই সমর্থন দিচ্ছে। আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বারবার দাবি করে আসা মস্কো শনিবার যখন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ব্যস্ত, এবং ওদিকে মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে সমবেত হয়ে পশ্চিমা নেতা ও তাদের ইউরোপীয় উদ্বিগ্ন মিত্ররা যখন রাশিয়াকে থামাতে অবরোধ আরোপে আলাপরত, তখন খবর পাওয়া গেল- পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্রের দুই নেতা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিরোধের সম্মিলিত এক ডিক্রি জারি করেছেন। এরই মধ্যে হামলায় এক ইউক্রেনীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। যে যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সম্ভবত এরই মধ্য দিয়ে সে যুদ্ধ ‘শুরু’ হয়ে গেল।

এদিকে জর্জিয়ার রাজধানী তিলিসিতে সরকারি ভবনের সামনে ইউক্রেনের জনতার পক্ষে সংহতি জানিয়ে গতকাল মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। এ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী জর্জি গ্যাব্রিয়েজ। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, রাশিয়া হামলা করে বসলে ইউক্রেনীয়দের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কী ধরনের সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে জর্জিয়ার? উত্তরে তিনি টুইটারে এ লেখককে বলেছেন- ‘তাদের যে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা দেখছি, বলা মুশকিল আদৌ সত্যিকারের কোনো সদিচ্ছা [জর্জিয়া সরকারের] আছে কিনা। ইউক্রেনের সমর্থনে তৈরি এক প্রস্তাবে রাশিয়াকে তারা এমনকি ‘আগ্রাসী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেনি।’

ইউক্রেনের রুশপন্থি সরকারকে উৎখাতে রাজধানী কিয়েভে ২০১৪ সালে যে সফল ‘মর্যাদার বিপ্লব’ হয়েছিল, এরই বদলা হিসেবে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ অধিগ্রহণ করেছিল রাশিয়া। এ সময় পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থিরা বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। ২০১৫ সালে অস্ত্রবিরতি হয়, কিন্তু এ সংঘাতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

এ রকম আরেকটি আগ্রাসন কি রাশিয়া চালাতে পারে না? প্রশ্ন করেছিলাম ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ইনস্টিটিউট অন রাশিয়ার অধ্যাপক তাৎসিয়ানা কুলাকেভিচকে। তিনি বলেন, ‘মস্কো যদি সত্যিই আক্রমণ করে বসে, তা হলে পশ্চিমবিশ্ব তো বলেই রেখেছে যে তারা ইউক্রেনকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং [রাশিয়ার বিরুদ্ধে] অবরোধ আরোপ করবে। সুতরাং মনে হয় না রুশবাহিনী কোনো উসকানি ছাড়া আগ্রাসন চালাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুরাষ্ট্রীয় সামরিক জোট ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে যেভাবে বিস্তার ঘটিয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য অবশ্যই বিবেচ্য বিষয়। রাশিয়ার আগ্রাসন ও আধিপত্যের আশঙ্কায় ইউক্রেন ওই জোটের সদস্যপদ পেতে মরিয়া। আবার ন্যাটো ঘরের দেয়ালঘেঁষে ঘাঁটি গড়লে তা যে পুরো রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, মস্কো তা প্রকাশ্যেই জানিয়েছে।

‘সোজা কথায় কাজ হচ্ছিল না’ বলে ইউক্রেনের ভেতর ও সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা (এর মধ্যে অবশ্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সেনারাও রয়েছেন) মোতায়েন করে ফেলেছে। আর এরই পর পশ্চিমারা বলা শুরু করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেছে।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার বলেন, তার বিশ্বাস এই যে, ইউক্রেনে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যে কোনো দিনই হামলা হতে পারে। মস্কো অবশ্য প্রথম থেকে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

কিন্তু পুতিন বলছেন, পূর্ব ইউক্রেনে সংখ্যালঘু রুশদের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করবে না মস্কো। সংঘাতপূর্ণ দনবাসের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অভিযোগ করেছেন, তিন দিন আগে ইউক্রেনের বাহিনী তাদের ওপর হামলা করেছেন, এ জন্য পাল্টা তারাও হামলা করছেন।

অবশ্য পশ্চিমারা বলছেন, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলার অজুহাত হিসেবে পূর্ব ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের ভুয়া অভিযোগ তুলছে রাশিয়া। দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ৩৫ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে সাত লাখের বেশি মানুষকে নাগকিত্ব-ভিসা দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার ভয়ে এরই মধ্যে অনেকে ওই অঞ্চল ছেড়ে রাশিয়ায় যাওয়া শুরু করেছে বলে গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

দোনেৎস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রধান নেতা দেনিস পুশিলিন শনিবার এক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন। তার ভাষায় ‘আজ আমরা যুদ্ধপ্রস্তুতির ডিক্রি জারি করেছি। এ অঞ্চলের রুশ নাগরিকদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’ যুদ্ধ করতে সক্ষম, ওই অঞ্চলের এমন বয়সী সব নাগরিককে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তিনি। ঘোষণায় তিনি স্থানীয় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মানুষকে এলাকা ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। ডিক্রিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামূলক এ যুদ্ধে প্রয়োজনে নাগরিকদের যানবাহন ও সম্পদ কর্তৃপক্ষ বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ করতে পারবে।

জার্মানির মিউনিখে সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হুশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি সত্যিই সামরিক হামলা করে, তা হলে রাশিয়ার বাণিজ্য ও প্রধান প্রধান শিল্প কারখানার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, রুশ সেনারা অস্থায়ী ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন এবং ইউক্রেনের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পুতিনের মনে কী আছে, এটা পড়া যেন সহসা সম্ভব হচ্ছে না কারো পক্ষেই। মিউনিখের সম্মেলনে উপস্থিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলছেন, পুতিনকে পড়তে পারছেন না তিনি। কিন্তু জনসনের ভাষায়, ‘আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। এবং এ জন্যই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

নেতারা পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন যুদ্ধ থেকে মন সরিয়ে শান্তি ও কূটনীতির পথে পা বাড়ান তিনি। পুতিন আসলে করবেন কী?   সুত্র:

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Recent Comments

    calendar 2026

    February 2026
    M T W T F S S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    232425262728  
    © All rights reserved © 2019 OnlineChannel
    Theme Customization By onlinechannel.Com